Home / প্রতিবেদন

প্রতিবেদন

[rev_slider alias=”homeslider”]

প্রতিবেদন

পরিবেশ আন্দোলনে তারুণ্য

গ্রীন ইয়ুথ এনভায়রনমেন্টাল ফেয়ার- ২০১৫

“হাজারো অঙ্গীকার, একটাই লক্ষ্য, চল একসাথে কাজ করি” সেøাগানকে সামনে রেখে পরিবেশবাদী-স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন “ইয়ুথ ভলান্টিয়ার অব এনভায়রনমেন্ট” গত ৬ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গনে আয়োজন করে দিনব্যাপী “গ্রীন ইয়ুথ এনভায়রনমেন্টাল ফেয়ার- ২০১৫”। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বনবিদ্যা ও পরিবেশ বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের একাডেমিক ক্লাব হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও সংগঠনটি বর্তমানে কাজ করছে জাতীয় পর্যায়ে পরিবেশ বিষয়ক ইস্যু গুলোতে।

উক্ত মেলায় সর্বমোট ৪টি অংশে প্রতিযোগীতা সম্পন্ন হয় এবং এতে অংশগ্রহণ করে দেশের ১৭টি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ২টি স্কুল। প্রতিযোগীতার অংশগুলো হল- গ্রীন ফটোগ্রাফি, গ্রীন পোস্টার প্রেজেন্টেশন, গ্রীন প্রোজেক্ট এবং গ্রীন ডিবেট। বর্তমানে পরিবেশের অবস্থা, পরিবেশের দূষণ ও আমাদের করণীয় বিষয়গুলো উঠে আসে উক্ত অংশগুলোতে। তাছাড়াও বিশেষভাবে উঠে আসে পরিবেশ নিয়ে বর্তমান যুব সমাজের চিন্তা-ভাবনাগুলো।

সকাল ৯ ঘটিকা থেকেই অংশগ্রহণকারী এবং দর্শনার্থীদের আগমনে শিল্পকলা প্রাঙ্গন হতে থাকে মুখরিত ও প্রাণোচ্ছল। বেলা সাড়ে দশটায় মেলায় উপস্থিত হন মেলার সভাপতি প্রফেসর ড. মোহাম্মাদ আল-আমিন, প্রধান অতিথি প্রফেসর ড. খালেদ মিজবাহুজ্জামান এবং বিশেষ অতিথি মুক্তিযোদ্ধা ও সাংবাদিক জনাব আ ক ম রইসুল হক বাহার। শিল্পকলা মিলনায়তনে অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশ্যে উনারা প্রাসঙ্গিক বক্তব্য রাখেন। প্রফেসর ড. খালেদ মিজবাহুজ্জামান বলেন “ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য পৃথিবীকে বাসযোগ্য করে রেখে যেতে হলে সর্বস্তরে পরিবেশ সচেতনতা প্রয়োজন। ইয়ুথ ভলান্টিয়ার অফ এনভায়রনমেন্ট এই আয়োজন এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস”। বিশেষ অতিথি জনাব আ ক ম রইসুল হক বাহার বলেন “পরিবেশ অবনতি সম্পর্কে আজকের পৃথিবী অনেক বেশি সচেতন, প্রয়োজন আমাদের চিন্তাগুলোকে বাস্তবে প্রতিফলিত করা, এক্ষেত্রে যুব সমাজের ভুমিকা অগ্রণীয়”। উনার বক্তব্যে আরও উঠে আসে সম্প্রতি ফ্রান্সের প্যারিসে অনুষ্ঠিত ঈঙচ-২১ – বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনে পরিবেশ পরিবর্তন মোকাবেলায় গৃহীত বর্তমান বিষয়গুলো। অন্যান্যদের মাঝে আরও বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বনবিদ্যা ও পরিবেশ বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের প্রভাষক জনাব কে এম নাজমুল ইসলাম নয়ন। বক্তব্য শেষে প্রধান অতিথি “গ্রীন ইয়ুথ এনভায়রনমেন্টাল ফেয়ার- ২০১৫” উদ্বোধন করেন।

বিকাল ৩ টায় মেলায় উপস্থিত হন মেলার সমাপনী অংশের প্রধান অতিথি জনাব আজাদুর রহমান মল্লিক, পরিচালক, পরিবেশ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম। বিতর্কের ফাইনাল পর্বের শেষে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন প্রভাষক জনাব আকতার হোসেন ও প্রধান অতিথি জনাব আজাদুর রহমান মল্লিক। সমাপনী বক্তব্যে জনাব আজাদুর রহমান মল্লিক উল্লেখযোগ্যভাবে বলেন, “আইন করে পরিবেশ রক্ষা করা সম্ভব না। এর জন্য সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে ও বিশেষ করে যুব সমাজকেই একসাথে কাজ করতে হবে। ইয়ুথ ভলান্টিয়ার অফ এনভায়রনমেন্ট এর নিবেদিত কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকদের যদি কাজে লাগানো যায় তাহলে সামাজিকভাবে পরিবেশ রক্ষার আন্দোলন আরো অগ্রসর হবে।”

“গ্রীন ইয়ুথ এনভায়রনমেন্টাল ফেয়ার- ২০১৫” আয়োজনে সম্মানিত অতিথিবৃন্দ, অংশগ্রহণকারী, বিচারকমন্ডলী, দর্শনার্থীরা সারাদিন পরিবেশ নিয়ে সচেতনামূলক নানাদিক অবলোকন করেন। “গ্রীন ফটোগ্রাফি”র মাধ্যমে সবাই আমাদের চারপাশের পরিবেশ দূষণ, বিপর্যয় অনুধাবন করেন ও “গ্রীন পোস্টার প্রেজেন্টেশান” দিয়ে অংশগ্রহণকারীরা তাদের চিন্তাভাবনাকে সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেন। অপরদিকে “গ্রীন প্রজেক্ট” এর সবার সামনে তুলে ধরা হয় পরিবেশ রক্ষার জন্য অভিনব পরিবেশ বন্ধুসুলভ ভাবনার সম্ভাবিত বাস্তবিক রূপ আর “গ্রীন ডিবেট” আয়োজন যুব সমাজের কথা বলা ও ভাবনা ভাগ করে নেয়ার যেন এক প্রতিরূপ।

পরিবেশ নিয়ে কোলাহল পূর্ণ আয়োজনের দিন শেষে সব বিজয়ীদের হাতে ক্রেস্ট ও সার্টিফিকেট বিতরণ করেন প্রধান অতিথি জনাব আজাদুর রহমান মল্লিক। পুরষ্কার বিতরণের শেষে মনোজ্ঞ কনসার্ট উপভোগের মধ্য দিয়ে “গ্রীন ইয়ুথ এনভায়রনমেন্টাল ফেয়ার- ২০১৫” এর আয়োজন সমাপ্ত করা হয়।