Home / বিশেষ রচনা / হৃদরোগ সচেতনতা, চিকিৎসা : প্রেক্ষাপট বাংলাদেশ, মুশফিক হোসাইন

হৃদরোগ সচেতনতা, চিকিৎসা : প্রেক্ষাপট বাংলাদেশ, মুশফিক হোসাইন

 

হৃদরোগ সচেতনতা, চিকিৎসা : প্রেক্ষাপট বাংলাদেশ

মুশফিক হোসাইন

সাম্প্রতিক সময়ে হৃদরোগ বিষয়ক ঝুঁকি বাংলাদেশে দিন দিন বেড়েই চলেছে। বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকির অন্যতম কারণও হৃদরোগ। আজ থেকে ৫০/৬০ বছর আগে এই রোগ ততটা প্রবল ছিল না। তখনকার সময়ে বলা হতো, “কইলজ্যা কামড়ি” রোগে মানুষ মারা যায়। তাও সংখ্যায় অতি সামান্য। বলা যায় হৃদরোগ সম্পর্কে সাধারণ মানুষ শুধু নয় অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসাও ততটা অগ্রসর ছিল না। এ সম্পর্কে ধারণাও ছিল অস্পষ্ট। বাংলাদেশে ৭০ দশকের পরে হৃদরোগের প্রকোপ বাড়তে থাকে। উন্নত বিশ্বে অবশ্য তারও আগে শুরু হয়। দেশে তখন হৃদরোগ চিকিৎসক ও শল্যবিদ খুব একটা ছিলনা। বর্তমানেও যে কাম্যস্তরে আছে, সে কথাও বলা যাবে না।

বাংলাদেশ ও সমগ্র বিশ্বে হার্ট অ্যাটাক বর্তমানে একটি আশঙ্কাজনক পর্যায়ে আছে। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী বিশ্বে প্রতিবছর ১ কোটি ৭০ লাখ লোক হৃদরোগের কারণে মৃত্যুবরণ করে। এই অনুপাতে চলতে থাকলে ২০৩০ সাল নাগাদ এই সংখ্যা আরো বৃদ্ধি পেয়ে ২ কোটি ৩০ লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে। হার্ট অ্যাটাকে বা হৃদরোগ একদিনে হঠাৎ করে হয় না। সাধারণ মানুষের ধারণা হৃদরোগ হঠাৎ আক্রমণ করার ফলে মানুষের মৃত্যু। পঙ্গুত্বের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। চিকিৎসা বিজ্ঞানিরা বলেন, এই রোগ সম্পর্কে অসচেতনতার অভাব একটি বড় কারণ। জীবন যাপনে বেপরোয়া হওয়ার কারণে রোগটি হয়ে থাকে। এছাড়া অস্বাস্থ্যকর খাদ্যভ্যাস, কায়িক পরিশ্রম না করা, তামাক জাতীয় দ্রব্যের ব্যবহার, এবং দুশ্চিন্তা হৃদরোগের অন্যতম কারণ। তথ্য প্রযুক্তির উন্নতির কারণে সামাজিক, জীবন যাপন ও কর্মক্ষেত্রে প্রবল প্রতিযোগিতার সম্মুখীন মানুষরা মানসিক চাপে থাকে। যার ফলে শারিরীক বিক্রিয়ার কারণে রক্তে চর্বির পরিমাণ বেড়ে যায়। অধিকাংশ রোগী রক্তানালিতে চর্বি জমার এই প্রক্রিয়া প্রাথমিক পর্যায়ে উপলদ্ধি করতে পারেন না। ফলে তারা মোটামুটি স্বাভাবিকভাবে জীবন যাপন করতে থাকেন। এদের অনেকেই নিয়মিত শারিরিক চেক-আপ করেন না বা অবহেলা করে থাকেন। যার প্রেক্ষিতে হঠাৎ যে কোন কারণে চর্বির জায়গাটিতে ফাটল সৃষ্টি হতে পারে। এতে করে ফাটলের জায়গায় রক্তকণিকা জমে একটি ক্লট তৈরি করে। এক পর্যায়ে রক্ত জমাট বেঁধে রক্তনালি বন্ধ করে দেয়। সহজভাবে এটিই হলো হার্ট অ্যাটাক। রক্তনালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে হৃদযন্ত্রের বিশাল এলাকায় রক্ত প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, হার্ট অ্যাটাক হলে ২৫ শতাংশ রোগী হাসপাতালে নেওয়ার আগেই মারা যায়। আরও দুঃখজনক বুকে ব্যথা হলে অনেকেই গ্যাসের সমস্যা মনে করে ঘরে বসে থাকেন। যখন তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় ততক্ষণে অনেক ক্ষতি হয়ে যায়। উল্লেখ্য যে, হৃদযন্ত্র একটি পাম্প বিশেষ। ইঞ্জিন যেমন সচল রাখার জন্য ফুয়েল পাম্প থাকে। তেমনি শরীরকে সচল রাখার জন্য পাম্প কার্যকর থাকা জরুরী। এই পাম্প মানব সন্তানের মাতৃগর্ভে থাকাকালীন সময় থেকে কাজ শুরু করে। পাম্পটির কাজ হলো বিশুদ্ধ রক্ত শরীরের প্রতিটি অঙ্গে সরবরাহ করা। আর শরীরের দূষিত রক্তকে ফেরত নিয়ে ফুসফুসে পৌঁছে দেওয়া। এবং ফুসফুস থেকে সেই রক্ত আবার বিশুদ্ধ করে নিয়ে আসা। এই পাম্পটি একটি শিশুর গর্ভকালীন অবস্থা থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত কাজ করে থাকে। পাম্প বন্ধ হওয়া মানে নির্ঘাত মৃত্যু।

হৃদযন্ত্রের সুষ্ঠভাবে কাজ করার জন্য অক্সিজেন, নিউট্রিয়েন্ট প্রয়োজন। হৃদযন্ত্র করোনারি ধমনির মাধ্যমে অক্সিজেন ও নিউট্রিয়েন্ট সরবরাহ পায়। মানুষের শরীরে দুটি করোনারী ধমনি আছে। একটি ডান দিকে অন্যটি বা দিকে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বে প্রতিবছর প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ লোক হৃদরোগের কারণে মারা যায়। অ্যাটাকের প্রধান কারণ করোনারী হৃদরোগ। বাংলাদেশ কার্ডিয়াক সোসাইটির ২০১৭ সালের গবেষণায় দেখা যায় বাংলাদেশের ৫-৬ শতাংশ মানুষ করোনারি হৃদরোগে ভোগে। অসংক্রমক রোগের কারণে মারা যাওয়া রোগীর মধ্যে প্রায় ২০ শতাংশ হৃদরোগে ভোগে এবং ১৭ শতাংশ করোনারি হৃদরোগের কারণে মারা যান।

বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ুস্কাল (৭২ বছর) বেড়েছে। এর মূল কারণ সংক্রামক রোগে মৃত্যুর হার কমে যাওয়া। কিন্তু একই সঙ্গে দেশে অসংক্রামক রোগ, বিশেষ করে হৃদরোগ তুলনামূলকভাবে বেড়ে গেছে। ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ সোহেল রেজা চৌধুরী বলেন, সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা যায়, বাংলাদেশে ৬৭ শতাংশ মৃত্যু অসংক্রামক রোগের কারণে হয়। অসংক্রামক রোগগুলোর মধ্যে হৃদরোগ, ক্যান্সার, ডায়বেটিস ও শ্বাসতন্ত্রের রোগ উল্লেখযোগ্য। (প্রথম আলো ১৯ এপ্রিল ২০১৮) আবার অসংক্রামক রোগের কারণে মৃত্যুর অর্ধেকই হৃদরোগে হয়। এর মধ্যে ২২ শতাংশ মৃত্যু হয় অপরিণত বয়সে। উন্নত দেশগুলোতে হার্ট অ্যাটাকে মারা যাওয়া রোগীর গড় বয়স ৬০ বছর। কিন্তু বাংলাদেশে হার্ট অ্যাটাকে মারা যাওয়া রোগীর গড় বয়স ৫০ বছর। বলা যায় বাংলাদেশে হার্ট অ্যাটাক অনেক অপরিণত বয়সে হয়। বাংলাদেশে অপরিণত বয়সে হার্ট অ্যাটাকের অনেকগুলো কারণ আছে। যেমন তামাক জাতীয় দ্রব্যের ব্যাপক ব্যবহার। আমাদের দেশে প্রায় ৪৩ শতাংশ পুরুষ এবং ২৫ শতাংশ নারী তামাক ব্যবহার করে থাকে। ধুমপান, তামাক, খৈনি এবং পান খাওয়ার সাথে তামাক, জর্দ্দা ইত্যাদি ব্যবহার করে থাকেন।

আমাদের দেশে ২১ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ উচ্চ রক্তচাপে ভোগেন, যা হার্ট অ্যাটাকের অন্যতম প্রধান কারণ। অথচ অবাক করা বিষয় হচ্ছে, বাংলাদেশের প্রায় এক তৃতীয়াংশ মানুষ জীবনে কখনো রক্তাচাপ মাপেন নি। তিনি আরো বলেন, তামাক ব্যবহার বন্ধ ও উচ্চ রক্তচাপের হার কমিয়ে আনলে বাংলাদেশে অপরিণত বয়সে হার্ট অ্যাটাক অনেক কমিয়ে আনা সম্ভব। আগেই বলেছি হার্ট অ্যাটাকের কারণে আক্রান্ত মানুষের ২৫ শতাংশর আকস্মিক মৃত্যু হয়। তারা হাসপাতালে আসার কিংবা চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগও পায় না। আবার হাসপাতালে যারা আসেন, তাদেরও মৃত্যু হার কম নয়। সাম্প্রতিক জরিপে দেখা যায়, হার্ট অ্যাটাকের পর হাসপাতালে আসা রোগীদের মৃত্যুর হার প্রায় ৭ দশমিক ৬ শতাংশ। যা কয়েক বছর আগেও ছিল প্রায় ১১ শতাংশ। তবে সচেতনতা বৃদ্ধি ও আধুনিক চিকিৎসার কারণে বর্তমানে হাসপাতালে আসা রোগীদের মৃত্যুর হার কমে আসছে। তাই আমাদের খেয়াল রাখতে হবে হার্ট অ্যাটাকের পূর্বলক্ষণ কি-কি? যেমন বুকে ব্যাথা হওয়া, বুকভার লাগা, চাপ লাগা, বমিভাব হওয়া, মাঝে মধ্যে মাথা ঝিম ঝিম করা, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়বেটিস বেড়ে যাওয়া, শ্বাস কষ্ট হওয়া। অনেকে মনে করেন, বুকে ব্যথা হওয়ার পাশাপাশি শরীর ঘেমে বমি হওয়ার সাথে হৃদরোগের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু এটিই হৃদরোগের একমাত্র লক্ষণ নয়। অনেকের হাঁটতে কষ্ট হতে পারে, বুক জ্বলতে পারে, বুক ধরপড় করতে পারে, হাঁটতে মাথা ঘোরাতে পারে। এই লক্ষণগুলো দেখা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া জরুরী। এ লক্ষণগুলো সম্পর্কে সাধারণ জনগণকে সচেতন করা আবশ্যক।

তথ্যপ্রযুক্তির উন্নতির সাথে সাথে হৃদরোগের চিকিৎসায় অনেক উন্নতি হয়েছে। হার্ট অ্যাটাক মোকাবেলায় দুই বিষয়ে সচেতনতার প্রয়োজন। প্রথমত: রোগ প্রতিরোধে সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। দ্বিতীয়ত: হার্ট অ্যাটাক হলে সঙ্গে সঙ্গে দক্ষ ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মাধ্যমে চিকিৎসা নিতে হবে। বর্তমানে বাংলাদেশে হৃদরোগের সর্বাধুনিক চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে। করোনারী ব্যবস্থাপনা, বাইপাস সার্জারিসহ রোগীদের মানসম্পন্ন ওষুধ নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে। বর্তমানে সরকারী ও বেসরকারী পর্যায়ে হৃদরোগের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা থাকলেও তা পর্যাপ্ত নয়। এখনও হার্টের চিকিৎসার জন্য বিদেশে রোগী গমনের সংখ্যা প্রচুর। হার্টঅ্যাটাক মুক্ত বাংলাদেশ গড়ার জন্য চিকিৎসক, সরকারী ও বেসরকারী চিকিৎসার সুবিধা বাংলাদেশে থাকলেও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ঘাটতি ব্যাপক। এখনও দেশে অসংখ্য বিদেশি চিকিৎসক, নার্স ও কর্মী কাজ করছেন।

বর্তমানে দেশে ১০ লাখ লোকের জন্য ৫ দশমিক ৭ জন হৃদরোগের বিশেষজ্ঞ আছেন। আবার ১০ লাখ লোকের জন্য হৃদরোগ শল্যবিদ (সার্জন) আছেন মাত্র ১ দশমিক ২ জন। হৃদরোগের চিকিৎসার জন্য সারাদেশে নির্ধারিত বিছানা আছে ৪ হাজার। হার্ট অ্যাটাক রোগীর জন্য বিশেষ বিছানা আছে ১ হাজার ৩০০টি। কার্ডিয়াক সার্জারির জন্য আছে মাত্র ৫০০ বিছানা। হার্ট অ্যাটাকের এক লাখ রোগীর জন্য বিশেষ বিছানার ব্যবস্থা আছে মাত্র দশমিক ০.৮৩ টি করে। অথচ আন্তর্জাতিক ভাবে এক লাখ লোকের জন্য চার পাঁচটি বিশেষ বিছানার সুপারিশ করা হয়।

বাংলাদেশে হৃদরোগের জন্য নির্ধারিত বিছানা আছে ৪০০০ হাজারটি। সে ক্ষেত্রে ডা: দেবী শেঠির ‘হৃদয়ালয়’ নামক একটি হাসপাতালে আছে ৭১৮১টি। সেখানে অপারেশনাল বেড (বিছানা) আছে ৫৯৩২টি যেখানে বাংলাদেশের মাত্র ৫০০টি। সারা বাংলাদেশের সাথে ভারতের বেঙ্গালুরে অবস্থিত একটি হাসপাতালের তুলনা করলে আমাদের দৈন্যতার চিত্র ফুটে উঠে। দেশে হৃদরোগ চিকিৎসার ৯৮ শতাংশ আবার শহর কেন্দ্রিক। বলা যায় দেশের বিরাট সংখ্যক রোগী বিশেষ করে গ্রামের রোগীরা চিকিৎসা সুবিধা থেকে দূরে আছেন।

ভারতে স্বাস্থ্য-বিমার সুযোগ আছে। ফলে সেখানে মানসম্মত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে। বাংলাদেশে সে সুযোগ নাই। হৃদরোগ চিকিৎসা একটি ব্যয় বহুল চিকিৎসা। হৃদরোগ হলে নি¤œবিত্ত ও মধ্যবিত্তের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

প্রথমত: হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যুর কারণে একটি পরিবার অর্থনৈতিকভাবে কঠিন অবস্থার মধ্যে পরতে পারে। পরিবারের আয়-উপার্জনকারী মৃত্যুর কারণে পরিবারের আয় কমে যায়। ফলে সন্তানদের লেখাপড়া ও চিকিৎসা অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

দ্বিতীয়ত: হার্ট অ্যাটাকের সুচিকিৎসা না পেলে রোগী দীর্ঘদিন ধরে রোগে ভোগে। এতে ব্যক্তি ও পরিবারের উৎপাদন ক্ষমতা হ্রাস পায়। আর্থিক অস্বচ্ছলতা দেখা দিতে পারে।

তৃতীয়ত: যেহেতু হৃদরোগের সেহেতু চিকিৎসা অনেক ব্যয় বহুল। দারিদ্রসীমা থেকে বের হয়ে আসা ব্যক্তি বা পরিবার আবার দ্রারিদ্র্যের মধ্যে চলে যেতে পারে। এক্ষেত্রে যদি উন্নত বিশ্ব বা ভারতের মতো রাষ্ট্রীয় সহায়তা বা স্বাস্থ্য-বিমা চালু হলে দেশের হৃদরোগীর চিকিৎসার নিরাপত্তায় স্বস্তি দিতে পারে।

হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি মোকাবেলায় বাংলাদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থাকে সমন্বিত করার পাশাপাশি ধারাবাহিক ভাবে উন্নত করা প্রয়োজন। বাংলাদেশে হার্ট ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক আব্দুল মালিক বলেন, “১৯৭৮ সালে যখন হার্ট ফাউন্ডেশন শুরু করা হয়, তখন একটি ছোট পুস্তিকায় লেখা হয়েছিল হৃদরোগ আজকের শত্রু ও আগামী দিনের মহামারী”। এ রোগ এখন মহামারীতে পরিণত হয়েছে। অধ্যাপক আব্দুল মালিক বাংলাদেশে হৃদরোগ চিকিৎসার পথিকৃৎ বিশেষজ্ঞ। তিনি মনে করেন, “বাংলাদেশে বর্তমান হৃদরোগ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে ভবিষ্যৎ খুব ভালো হবে না। তাই এ রোগ প্রতিরোধে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। হৃদরোগ চিকিৎসা অতি ব্যয় বহুল, সেহেতু মানুষকে রোগ, প্রতিরোধের উপর বেশি বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য গণসচেতনতার কোন বিকল্প নেই। গণসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য চিকিৎসক, সরকার, গণমাধ্যম, উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ীসহ সকলের সমন্বিত উদ্যোগ দরকার। শুধু আধুনিক যন্ত্রপাতি সংগ্রহ ও আধুনিক সুরম্য ভবনাদি নির্মাণ করলে সুষ্ঠ চিকিৎসা সেবা প্রদান সম্ভব নয়। চাই দক্ষ জনশক্তি, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও শল্যবিদ।

মানসম্মত চিকিৎসা ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রতিকার ও প্রতিরোধের জন্য দেশবাসীকে নিম্ন বিষয়গুলি সম্পর্কে সচেতন হতে হবে।

প্রথমত: মানুষের খাদ্যভ্যাস পরিবর্তন করতে হবে এবং খাদ্য নিয়ে সচেতন হতে হবে।

দ্বিতীয়ত: কায়িক পরিশ্রমের উপর সবিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। সপ্তাহের পাঁচদিন নুন্যতম ৪৫ মিনিট থেকে একঘন্টা হাঁটার অভ্যাস গড়তে হবে।

তৃতীয়ত: ধুমপান সম্পূর্ণভাবে বর্জন করতে হবে।

চতুর্থত: মানসিক দুশ্চিন্তা মুক্ত থাকার জন্য বিনোদন/ধর্মীয় কাজে জড়িয়ে নিজেকে নির্ভার রাখতে হবে। দুশ্চিন্তা বা মানসিক চাপ হৃদরোগের অন্যতম একটি কারণ।

পঞ্চমত: নিয়মিত স্বাস্থ্য চেকআপ এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলতে হবে। শুধুমাত্র দেশে পর্যাপ্ত হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করে এই রোগ থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে না। আবারও বলছি, রোগ প্রতিরোধের উপর বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। তা না হলে এই মহামারি রোগ থেকে রেহাই পাওয়া যাবেনা। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নতির সাথে সাথে মানুষের কায়িক শ্রম কমে গেছে, আবার ফাস্টফুড গ্রাস করছে পুরো সমাজকে। তেমনি ধুমপানের বিষ থেকে মুক্তি পাওয়া যাচ্ছে না, কর্পোরেট পুঁজি একে উৎসাহী করার জন্য নানাবিধ কৌশল অবলম্বন করছে। তাই সময় থাকতে সকল পক্ষকে হৃদরোগ প্রতিরোধে অধিকতর সচেতন হতে হবে। চিকিৎসা সহজলভ্য করলেও মহামারী রোধ করা সম্ভব হবে না। যদি না বদলায় খাসলত।

লেখক: কবি, নিসর্গী ও ব্যাংক নির্বাহী (অব)।

সম্পাদক- প্রকৃতি ও ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-দখিনা।

About jahan

Check Also

বাংলার বৈশাখ – হাফিজ রহমান

পহেলা বৈশাখ বাংলাদেশের অন্যতম সামাজিক উৎসব। ঐতিহ্যগতভাবে সব ধর্মের মানুষ এই উৎসবে অংশগ্রহণ করে। কিন্তু, …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *