পুরুষের পোষাকে পেশাদারিত্ব

0
125

সদ্য একটি অফিসে যোগদিলেন; একটি প্রেজেন্টেশন আছে। সবার সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলতে কিছুটা অস্বস্তি সাথে সাথে পোষাক-আশাকের ব্যাপারে তেমন কোন ধারনাও নাই ।

ক্লায়েন্টের সামনে কীভাবে নিজেকে উপস্থাপন করবেন তার উপরেও প্রেজেন্টেশন অনেকটাই নির্ভর করে। পরদিন সকালে বড় ভাইয়ের কথামতে সাদা শার্ট, ডার্ক স্যুট, নেভি-ব্লু টাই পরে অফিসে আসলেন। প্রেজেন্টেশন রুমে ঢুকে দেখলেন আপনার ক্লায়েন্টের পোশাক আপনার চেয়ে অনেক সাদাসিধে। অথবা আপনার চেয়ে অনেক টিপটপ । আপনাকে দেখেই বোঝা যাচ্ছে, এই পরিবেশে আপনি আগে কখনওই পড়েননি। লজ্জায় এতোটুকু হয়ে আপনার প্রেজেন্টেশন শেষ করে বাড়ি ফিরলেন, পরদিন অফিসে যেতে আর মন টানলো না। নিজেকে বেশ অপরিপক্ষ মনে হল ।

কর্পোরেট মানেই ফরমাল একটি পরিবেশ, অনেক রকমের উচ্চপদধারী লোকের আনাগোনা থাকা, এমন একটি অবস্থায় পোশাক মানেই হয়তো ভাবতে পারেন স্যুট-বুট, ক্লিন শেভ, সাদা শার্ট। এখানেও কি কোনো ভিন্নতা থাকা সম্ভব? তবে জেনে নেই বিস্তারিত:

নিজের জন্য খরচ করুন: নিজের জন্য খরচ করবার আগে নিশ্চিত করুন যে, আপনার একটি নির্দিষ্ট আয় রয়েছে। যেখান থেকে চাইলেই কিছু অংশ আপনি নিজের জন্য সরিয়ে রাখতে পারেন। এবার আপনি একটি নতুন প্রোজেক্টে হাত দিতে পারেন, যে প্রোজেক্ট আপনি নিজেই। অর্থের পাশাপাশি আপনাকে সময়ও বিনিয়োগ করতে হবে।

সময় খরচ করে আপনি খুঁজতে পারেন আপনার স্থান এবং কাজের ধরন অনুযায়ী কী ধরনের স্টাইল আপনার জন্য মানানসই হতে পারে। খুঁজে দেখতে পারেন আনুষঙ্গিক কী কী জিনিস আপনার প্রয়োজন হতে পারে। গুছিয়ে নিতে পারেন সেগুলো। আমরা পরিতৃপ্তিকে সঙ্গী করা দ্রুতগামী একটি বাহন। সময়ের সাথে সাথে আমাদের রুচি এবং তৃপ্তি পরিবর্তিত হয়। তাই লক্ষ্য রাখুন এদিকটায়ও। অভিজ্ঞ ও বিজ্ঞ হবার চেয়ে বরং এমন কেউ হয়ে ওঠার চেষ্টা করুন যিনি জ্ঞানী ও দূরদর্শী।

স্যুট তৈরি করে নিন: নিজের জন্য একটি স্যুট বানিয়ে নিয়ে আপনি কর্পোরেট জগতে প্রথম পদক্ষেপ রাখতে পারেন। এর জন্য প্রয়োজন সময় ও নিষ্ঠা। প্রথমত, স্যুট কেনার সময় আপনি নির্দিষ্ট কারও ট্রেন্ড অনুসরণ করতে পারেন, আবার একদম নিজস্ব আইডিয়া থেকেও বানিয়ে নিতে পারেন।

স্যুট বানানোর সময় অবশ্যই বাস্তবিক সবরকম পরিস্থিতি চিন্তা করে বানাতে হবে। কারণ এই স্যুট হবে আপনার কর্পোরেট জীবনের সঙ্গী। একটি স্যুট ওয়ার্ড্রবে থাকা মানেই পরিস্থিতির অনেকটা কর্তৃত্ব নিজের হাতে নিয়ে আসা।

স্যুট বানিয়ে নিন; Source: MensXP
ব্রিফকেস বহন করুন : ফরমাল ড্রেসআপ করে বেরোবেন, আর হাতে একটা ব্রিফকেস/ব্যাগ রাখবেন। একটু স্টাইলের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ও ফাইলগুলো ঠিকভাবে বহনের জন্য আপনার ব্রিফকেস থাকা জরুরি। কিন্তু ব্রিফকেস/ব্যাগ পছন্দের ক্ষেত্রেও আপনাকে একটু ক্লাসি হতে হবে।
লেদারের ফরমাল ব্যাগ; Source: Teakwood Leathers

একঘেয়ে ধরনের এই কাপড়ের ব্যাগগুলো ফরমাল ড্রেসআপের সময় বহন করার জন্য আপনার পছন্দের তালিকা থেকে বাদ দিন, আর বেছে নিন আলাদা কিছু। চামড়ার ফ্র্যাঙ্ক ক্লেগ ব্রিফকেসগুলো থাকতে পারে আপনার পছন্দের তালিকার উপরের দিকের।

হাতে দিন ঘড়ি: ফরমাল ড্রেসআপের সাথে হাত খালি থাকাটা মানায় না। তাই একটু সময় নিন, একটু রিসার্চ করুন এবং আপনার স্টাইলের সাথে মিলিয়ে একটি ফরমাল লুকের ঘড়ি বাছাই করতে চেষ্টা করুন। এসব ক্ষেত্রে স্পোর্টস টাইপ বা ডিজিটাল ঘড়িগুলো বাছাই না করাই ভালো। এতে করে আপনার ফরমাল স্টাইলের ওজন একটু কমে যাবে। আবার অ্যানালগ ঘড়িগুলোর ক্ষেত্রেও একটু বাছাই করার বিষয় আছে।
বেছে নিন সুন্দর ঘড়ি; Source: Pixabay

কিছু কিছু অ্যানালগ ঘড়ি আছে যেগুলো দেখতে একদম সাধারণ এবং ভিতরে ডায়াল ছাড়া আর কিছুই দেখা যায় না। এ ধরনের ঘড়ি ফরমাল ড্রেসআপের ক্ষেত্রে পরা এড়িয়ে চলুন। বাছাই করুন আরেকটু সুন্দর ঘড়ি, যা শুধু ফরমাল নয় বরং দেখতেও আকর্ষণীয় বটে। এমন ঘড়ি বাছাই করুন, যা আপনার ব্যক্তিত্বকে খুব সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারবে, হাতে পরলে আপনার আউটফিট একদম সম্পূর্ণ হবে। আপনি নিজের মাঝেই আত্মবিশ্বাস খুঁজে পাবেন আর আপনার সহকর্মীরাও আপনার ব্যক্তিত্বে মোহিত হয়ে থাকবে।

পরমাল জুতা ব্যবহার করুন: আজকাল ফরমাল স্টাইলে ফিতেওয়ালা জুতা খুব সাধারণ একটা স্টাইল হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফরমাল স্যুটের সাথে চামড়ার ফিতেওয়ালা জুতা না হলে যেন ফরমাল লুক আসে না ।
অথবা একটু বৈচিত্র্য আনুন, জুতার ফিতের পরিবর্তে বাকলস যুক্ত জুতা ব্যবহার করে দেখতে পারেন। বাকলস জুতা একদিকে যেমন দেখতে সম্পূর্ণ আলাদা পাশাপাশি দেখতেও অনেক ফ্যাশনেবল। তাই বাকলস জুতা হতে পারে আপনার অন্যরকম একটি বাছাই। একদম আলাদা হয়ে যান এবং সবাইকে বাধ্য করুন আপনার স্টাইলের টপ টু বটম দেখতে!
বাকলস জুতা; Source: John Lobb

‘কর্পোরেট’ শব্দটির সাথে ‘স্টাইল’ শব্দটি যেন কোনোমতেই যায় না। উল্টো এমন বিপরীতমুখী শব্দ শুনে কেউ হয়তো অভিধান খুলে উল্টেপাল্টে দেখে নেন আরেকবার। তবে সত্যিই আমাদের আজকের আয়োজন ছিলো এই বিপরীতমুখী শব্দ ‘কর্পোরেট স্টাইল’ নিয়ে।

কর্পোরেট জীবনেও অবশ্যই নির্দিষ্ট কিছু স্টাইল মেনে চলা উচিত। ‘স্টাইল’ অর্থ শৈলী, আপনার একান্ত কিছু ধরন। যে ধরনের আপনি কাপড় পরে শান্তি পান, যেমনটায় আপনি অভ্যস্ত তা-ই স্টাইল। প্রত্যেকেরই আলাদা আলাদা স্টাইল থাকে। যদিও আমাদের কাছে ‘স্টাইল’ শব্দের মানে কালক্রমে বদলে গিয়েছে। তাই সময় নিয়ে নিজের কর্পোরেট স্টাইলটি খুঁজে বের করুন, যা আপনাকে করে তুলবে একইসাথে আত্মবিশ্বাসী ও আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্বের অধিকারী। তবে এমন কোন পোষাক ব্যবহার করা যাবে না যা দেখে মনে হবে আপনি একজন অপেশাদার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here